যেকোনো ভূরাজনৈতিক ও অর্থনীতি নিয়ে অনিশ্চয়তায় আপৎকালীন বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা বাড়ে। তবে সম্প্রতি ইসরায়েল ও ইরানের সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা বাড়লেও গতকাল আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম কমেছে। খাতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) সুদহার সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত ও কানাডায় অনুষ্ঠেয় গ্রুপ অব সেভেন (জি৭) সম্মেলনের দিকে নজর রাখছে বিশ্ববাজার। খবর রয়টার্স।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গতকাল স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম কমেছে দশমিক ৫ শতাংশ। আউন্সপ্রতি মূল্য দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৪১৫ ডলার ৩৬ সেন্টে। এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার মার্কেটেও মূল্যবান ধাতুটির দাম দশমিক ৫ শতাংশ কমে আউন্সপ্রতি ৩ হাজার ৪৩৪ ডলার ৫০ সেন্টে নেমে যায়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও সম্ভাব্য সুদহার হ্রাস—এ দুই বিষয় স্বর্ণের বাজারে দীর্ঘমেয়াদে প্রভাব ফেলতে পারে। এ বিষয়ে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বৈশ্বিক বিনিয়োগ ব্যাংক ও আর্থিক পরিষেবা প্রতিষ্ঠান ইউবিএসের বিশ্লেষক জিওভান্নি স্টাউনোভো বলেন, ‘ভবিষ্যতে ফেড সুদহার কমাতে পারে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা এখনই শেষ হওয়ার লক্ষণ নেই। এ পরিস্থিতিতে স্বর্ণের বড় দরপতনের সম্ভাবনা কম।’
গতকাল ভোরে ইরান একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ইসরায়েলের তেলআবিব ও বন্দরনগরী হাইফায় আঘাত হানে। এতে অন্তত আটজন নিহত হন, ক্ষতিগ্রস্ত হয় বেশকিছু আবাসস্থল।
এ পরিস্থিতিতে জি৭ সম্মেলনে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যদিও খাতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, তাৎক্ষণিকভাবে বৈশ্বিক মুদ্রাবাজার বা শেয়ারবাজারে বড় কোনো অস্থিরতা দেখা যায়নি।
স্যাক্সো ব্যাংকের বিশ্লেষক ওলে হ্যানসেন বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরো বিস্তৃত হতে পারে কিনা, বিনিয়োগকারীরা সেটি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।’
এদিকে বুধবার ফেডারেল রিজার্ভের সুদহার বিষয়ক ঘোষণা ও চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েলের বক্তব্য স্বর্ণের বাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
গতকাল স্পট মার্কেটে রুপার দাম বেড়েছে দশমিক ৩ শতাংশ। প্রতি আউন্সের মূল্য পৌঁছেছে ৩৬ ডলার ৪১ সেন্টে। এ সময় প্লাটিনামের দাম ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে আউন্সে ১ হাজার ২৪২ ডলার ৮৫ সেন্টে পৌঁছায়। গতকাল প্যালাডিয়ামের দাম বেড়েছে ১ দশমিক ৬ শতাংশ। প্রতি আউন্সের মূল্য দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪৪ ডলার সেন্টে।